মুন্সীরহাট কলেজ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
যে কোন গোত্র, জনপদ,সভ্যতা তথা জাতির মেরুদন্ড হলো শিক্ষা। শিক্ষা ব্যতীত কোন জাতিই উন্নতির শিখড়ে পৌঁছাতে পারে না। মতলব দক্ষিণ জনপদটি বহু আগে থেকেই অনগ্রসর তথা পিছিয়ে পড়া জনপদ ছিল। এ অঞ্চলে ১৯৬৪ সালে মতলব সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিংশ শতকের নব্বইয়ের দশকের পূর্বে মতলব দক্ষিণে আর কোন কলেজ ছিলনা । নব্বইয়ের দশকে মতলব সদরে রয়মনেন নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ , নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর সদরে ছিল চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ। এ কলেজ গুলো বর্তমান মুন্সীরহাট অঞ্চল থেকে বেশ দূরে হওয়ায় এ এলাকার ছেলে মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। পিছিয়ে পড়া এ এলাকার ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, এ বিষয়টি প্রথম উপলব্দি করেন দিঘলদী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নেকবর আলী প্রধানীয়া। (সাবেক কর্মকর্তা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড) তিনিই এলাকার মানুষকে জাগ্রত করেন। এ জন্য তাঁকে মুন্সীরহাট কলেজের “স্বপ্ন দ্রষ্টা” বলা হয়। তিনি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে ঘোড়াধারির মরহুম ফজলুল হক (সাবেক মহা হিসাব রক্ষক), দিঘলদী গ্রামের মরহুম এম.এ. হালিম সরকার (সাবেক পরিদর্শক, মাদ্রাসা বোর্ড) এবং জনাব কাজী শাহজাহান (সেকশন অফিসার, শিক্ষা মন্ত্রনালয়) এর সহযোগিতা নিয়ে এলাকার সর্বস্তরের জনগণের সমর্থনে, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আর্থিক সহায়তায় ১৯৯৫ সালের ০১জুলাই বাবুর-মতলব পেন্নাই সড়কের পূর্ব পাশে মতলব পৌরসভাধীন দিঘলদী মৌজার ০৯নং ওয়ার্ডের এক মনোরম পরিবেশে নিজস্ব ভূমিতে “মুন্সীরহাট কলেজ” নামে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৯৫-১৯৯৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় এবং ভবনের অভাবে মুন্সীরহাট উচ্চ বিদ্যালেয়ে প্রথম পাঠদান করা হয়। নিজস্ব ভূমির উত্তর পাশে পূর্ব-পশ্চিমে ১১০ফুট লম্বা একটি টিনের কাঁচা ঘর তৈরী হলে শ্রেণি কার্যক্রম কলেজে স্থানান্তর করা হয়। কলেজটি ১৫/১১/১৯৯৫ সালে একাদশ শ্রেণিতে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাঠদানে প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৯৬সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠদানের স্বীকৃতিও অর্জন করে। কলেজের নিজস্ব ভূমির পরিমাণ ১.১৯একর। মরহুম এডভোকেট ইদ্রিস খাঁন এর প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে এ কলেজে বিজ্ঞান শাখা খোলা হয়।
১৯৯৮সালে নিয়মিত গভর্নিংবডি গঠিত হলে তৎকালিন মাননীয় সংসদ সদস্য চাঁদপুর-০২ ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জনাব মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সানুগ্রহে মুন্সীরহাট কলেজ ০১/০৪/১৯৯৯ সালে এমপিও ভুক্ত হয়।
- মুন্সীরহাট কলেজে মানবিক বিভাগে পৌরনীতি ও সুশাসন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সমাজকর্ম, ভূগোল ও ইসলাম শিক্ষা, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়- ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা, হিসাব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন(মার্কেটিং) ও কৃষি শিক্ষা এবং বিজ্ঞান শাখায়-পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত ও কৃষি শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করা হয়। বর্তমানে একদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৪০০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। ২০জন শিক্ষক ও ০৬জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। কলেজে ১টি উন্নত কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরী রয়েছে। কলেজের একাডেমিক স্বীকৃতি হালনাগাদ আছে এবং নিয়মিত গভর্নিংবডি দ্বারা পরিচালিত।
বিভিন্ন তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ লিংক
- ২০০৩ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, চাঁদপুর এর আর্থিক সহায়তায় প্রথম একটি একতলা শিক্ষক মিলনায়তন ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়। মাননীয় সংসদ সদস্য, চাঁদপুর-০৩ জনাব জি.এম. ফজলুল হক এর মাধ্যমে ২০০৬ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আর্থিক আনুকুল্যে চার তলা ভিতের উপর প্রথম দ্বিতল একাডেমিক ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১২ সালে কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে উত্তর দিকের টিনের কাঁচা শ্রেণিকক্ষ ভবনটি আধা পাকা করা হয়। ২০১২সালেই বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অর্থায়নে ০৮টি ডেস্কটপ, ১টি লেপটম ও ০১টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর নিয়ে ছোট আকারে কম্পিউটার ল্যাব চালু হয়। মাননীয় সংসদ সদস্য চাঁদপুর-০২ ও মন্ত্রী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় জনাব মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের প্রচেষ্টায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে দ্বিতল ভবনটি উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারিত হয়ে পাঁচটি কক্ষের সমন্বয়ে তিন তলা একাডেমিক ভবনে উন্নীত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব উসমান পাটোয়ারী, চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ, চাঁদপুর এর আর্থিক সহায়তায় ১৯৫২সালের ভাষা শহীদদের স্বরণে ২০২২ সালে একটি দৃষ্টি নন্দন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। জনাব আলহাজ্ব এডভোকেট মো. নুরুল আমিন রুহুল, মাননীয় সংসদ সদস্য চাঁদপুর-২ এর সহায়তায় কলেজে প্রবেশের ১১০ফুট/১২ফুট রাস্তাটি পাকা করণ করা হয় এবং ৪৩ফুট/২৬ফুট একটি আধা পাকা শ্রেণি কক্ষ নির্মাণ করা হয়। এলাকার শিক্ষানুরাগী জনাব আলহাজ্ব মো. নুরুজ্জামান হাজরার নিজস্ব অর্থায়নে কলেজের চোখ ধাঁধাঁনো গেইটটি নির্মাণ করা হয়।
- মুন্সীরহাট কলেজ প্রতিষ্ঠায় যাঁদের মেধা, শ্রম, অর্থ ও ঘাম রয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন- মরহুম ফজলুল হক- প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্য, মরহুম কাজী সুলতান আহমদ- প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্য, মরহুম এম.এ.হালিম সরকার- প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্য, মরহুম এডভোকেট ইদ্রিস খাঁন- প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্য, মরহুম মো. সালামত উল্লাহ প্রধানীয়া- প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্য, জনাব সিরাজুল হক হাজরা- প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.কে.এম. মাজহারুল ইসলাম খোকন- প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্য, মরহুম তোফাজ্জল হোসেন প্রধান- সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক কমিটি, মরহুম এড. বজলুল গণি- সহ সভাপতি- সাংগঠনিক কমিটি, মরহুম ফকরুল ইসলাম- সদস্য- সাংগঠনিক কমিটি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নেকবর আলী প্রধানীয়া- কলেজের স্বপ্নদ্রষ্টা ও সদস্য- সাংগঠনিক কমিটি, জনাব সাইফুল ইসলাম হাজরা- সদস্য- সাংগঠনিক কমিটি, জনাব আব্দুল লতিফ প্রধানীয়া- সদস্য- সাংগঠনিক কমিটি, জনাব কাজী মো. শাহজাহান- সদস্য- সাংগঠনিক কমিটি, মরহুম আ. রশিদ মাষ্টার- সদস্য- সাংগঠনিক কমিটি, জনাব দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী- সদস্য- সাংগঠনিক কমিটি, জনাব আ. শুক্কুর মাস্টার- সদস্য- সাংগঠনিক কমিটি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান মাস্টার, মরহুম হারুন খান এম.পি, কর্নেল বশির, আ. রব- প্রাক্তন চেয়ারম্যান-২২নং উপাদী, প্রকৌশলী আ. মান্নান, মরহুম এড.ছিদ্দিকুর রহমান হাজরা, আ. হক, জনাব হালিম পাটোয়ারী, জনাব কাদের পাটোয়ারী, প্রকৌশলী শামসুল হক ভূইয়া, জনাব লোকমান আখন্দ, জনাব ফজলুল কাদের, মরহুম আউয়াল পাটোয়ারী, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধ ফ্লাইট ল্যা.(অব.)এ.বি. সিদ্দিক এম.পি, জনাব বিউটি, জনাব শফিকুর রহমান, জনাব মাসুদুর রহমান, পোস্ট মাষ্টার আ. গণি, জনাব মুকবল আহমেদ, জনাব বাতেন, জনাব আহম্মদ উল্যাহ, জনাব জি.এম ফজলুল হক, এম.পি, জনাব মিলু চৌধুরী, এম.আর খাঁন, জনাব তাফাজ্জল ইসলাম, মরহুম অধ্যক্ষ রওশন খাঁন, মরহুম আ. আজিজ মাস্টার, মরহুম আমিনুল হক, মরহুম আলী মাস্টার, জনাব আ. বারেক সরকার, জনাব নয়ন হাজরা, জনাব মো. নুরুজ্জামান হাজরা, জনাব জহিরুল ইসলাম হাজরা, জনাব মাওলানা শফিকুর রহমান হাজরা, জনাব আনোয়ার হোসেন ভূট্টো হাজরা, জনাব মোজাম্মেল প্রধানীয়া, জনাব তৈয়ব আলী হাজরা- আজীবন দাতা সদস্য, জনাব মো. মোতালেব মিয়া- আজীবন দাতা সদস্য, জনাব কাজী সফিউদ্দিন আহমেদ-আজীবন দাতা সদস্য, জনাব এস.এম.মোরশেদ সেলিম-আজীবন দাতা সদস্য সহ আরো নাম না জানা শত সহস্র মানুষ। আরো আছেন কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
*তথ্য সূত্র: কলেজ অফিসে সংরক্ষিত নথিপত্র ও এলাকার জনগণ।